জেনে নিন বৃষ্টিতে মেকআপ ধরে রাখার কিছু কৌশল

ত্বকে মেকআপ দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন তার উপর যদি বৃষ্টির দিন হয়, তবে তো কথাই নেই! এই বৃষ্টি এই রোদ, আবহাওয়ার মতি গতি বোঝা দায় এই বিচ্ছিরি আবহাওয়া মেকআপ ঠিক রাখার জন্য ব্যবহার করছেন কত কিছু কত কৌশল, কিন্তু তাতেও মেকআপ ঠিক থাকছে না দীর্ঘ সময় মেকআপ ত্বকে ধরে রাখার জন্য খুব বেশি কিছু প্রয়োজন পড়ে না এরজন্য প্রয়োজন হয় সঠিক কসমেটিক্স এবং তার ব্যবহার এই বৃষ্টিতে মেকআপ ধরে রাখার কিছু কার্যকরী কৌশল জেনে নেওয়া যাক
প্রাইমার:
মেকআপ দীর্ঘসময় ধরে রাখার জন্য প্রাইমার অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। এমনকি আপনি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে না চাইলেও প্রাইমার ব্যবহার করুন। প্রথমে প্রাইমার লাগিয়ে তারপর বিবি ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এটি দীর্ঘ সময় একটা ম্যাট লুক দিবে
বিবি ক্রিম:
ভারী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার পরিবর্তে বিবি ক্রিম ব্যবহার করুন। এটি ত্বকে ম্যাট করলেও ত্বকের ময়েশ্চারাইজ ধরে রাখে। এছাড়া বিবি ক্রিমে এসপিএফ রয়েছে যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্নি থেকে ত্বককে রক্ষা করে
আইলাইনার:
অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ আইলাইনার ব্যবহার করা উচিত। পেন্সিল আইলাইনার ব্যবহার না করাই ভাল, কারণ এটি দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। লিকুইড আইলাইনার এই সময় ব্যবহার করা ভাল। চিকন করে আইল্যাশের কোল ঘেঁষে আইলাইনার ব্যবহার করুন। এতে আপনার আইল্যাসকে প্রাকৃতিকভাবে ঘন দেখাবে
আইশ্যাডো:
বৃষ্টির দিনে পাউডার আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। ক্রিম অথবা জেল আইশ্যাডো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। পাউডার আইশ্যাডো দীর্ঘ সময় চোখে ধরে রাখবে। খুব গাঢ় রং এর আইশ্যাডো ব্যবহার করার পরিবর্তে হালকা বা ম্যাট রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করুন
মাশকারা:
ওয়াটারপ্রুফ মাশকারা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কয়েকবার মাশকারা ব্যবহার করুন। প্রথমবার ব্যবহারের পর শুকিয়ে গেলে আবার ব্যবহার করুন। এইরকমভাবে কয়েকবার ব্যবহার করুন মাশকারা
লিপস্টিক:
এইসময় আপনি অবশ্যই লিপ গ্লস এবং ক্রিমি টেক্সচার লিপস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়া উচিত। ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। লিপস্টিক লাগানোর পর লিপস্টিকের উপর কিছুটা ফেসপাউডার লাগিয়ে দিন। এই ছোট কৌশল আপনার লিপস্টিক দীর্ঘসময় ধরে রাখবে

এই গরমের কি পোশাক পরবেন!

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের অন্যসব অভ্যাসের পাশাপাশি পোশাক-আশাকেও নানা পরিবর্তন আসে। গরমের কথা মাথায় রেখে তারা চান আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে।
আরামদায়ক পোশাকের জন্য কেউ কেউ ঢুঁ মারেন ফ্যাশন হাউসগুলোতে। কেউ আবার টেইলারের দোকান থেকে তৈরি করে নিচ্ছেন সুতি কাপড়ের পোশাক।
প্রকৃত অর্থে কেমন হওয়া উচিত গরমের পোশাক? এ নিয়ে প্রায়ই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে হয় তরুণদের। সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে এই গরমে অবশ্যই কৃত্রিম সব পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে।
পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরলে একদিক থেকে যেমন গরম কম লাগবে, অন্যদিকে আরামও লাগবে। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যাবে। পাতলা তাঁত ও খাদি কাপড়ের পোশাকও এ সময় পরা যায়। গরম এলেই সুতি কাপড়ের প্রসঙ্গ চলে আসে।
পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেয়েদের উচিত এই ধরনটিকে প্রাধান্য দেয়া। গরমের পোশাকের ক্ষেত্রে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা বেগুনি, হালকা নীল, বাদামি, আকাশি, হালকা হলুদ, ধূসরসহ হালকা রঙের পোশাকগুলো প্রাধান্য দেয়া উচিত। গরমে সাদা ও অন্যান্য হালকা রঙের পোশাক শুধু তাপ শোষণই করে না, সেই সঙ্গে চোখকে দেয় প্রশান্তি।
পুরুষ অথবা শিশুদের পোশাকের রং হালকা ধাঁচের হওয়া উচিত। সাদা, ঘিয়ে, ধূসর, হালকা নীল, বাদামি, গাঢ়
বাদামি, অফ হোয়াইটসহ সব রঙেরই কাপড় পাওয়া যায়। সরাসরি প্যান্টের মতো কোমর হলে মাপে সমস্যা হতে পারে।
তাই প্যান্ট আকৃতির কোমরের সঙ্গে ইলাস্টিক লাগানো থাকলে মাপটা সঠিক হয়। থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্টের আকৃতি কেমন হবে তা নির্ভর করছে আপনার রুচির ওপর। যদি হাঁটু পর্যন্ত চান তা-ও পাবেন, আবার হাঁটু থেকে সামান্য নিচে চাইলে সেটাও পেতে পারেন। ইচ্ছা করলে থ্রি-কোয়ার্টার বা ফোর- কোয়ার্টারের মধ্যে মোবাইল পকেট রাখতে পারেন।
এতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে সুবিধা হবে। সুতির মধ্যে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্টগুলো গরমের জন্য অনেক ভালো। এছাড়া পাতলা ধরনের গেঞ্জি কাপড়ের প্যান্টগুলোতেও অনেক আরাম পাওয়া যাবে।
জিনস ধরনের পাতলা কিছু কাপড় রয়েছে, সেগুলোর তৈরি করা থ্রি-কোয়ার্টার বা ফোর-কোয়ার্টার এবং হাফ প্যান্টগুলো খুব ভালো কাজে দেয় এই গরমে।
এছাড়া গ্যাবার্ডিনের তৈরি করা হালকা ধরনের মাল্টিপারপাস পকেটওয়ালা মোবাইল প্যান্টগুলো গরমে প্রায় প্রতিটি পোশাকের দোকানেই পাওয়া যায়।
সুতি কাপড়ের সঙ্গে লিনেন, দুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন, চিকেন ও তাতের কাপড় গরমের জন্য বেশ উপযোগী। উৎসবে পরতে পারেন কৃত্রিম মসলিন বা পাতলা চোষা কাতান।

দেশিয় ফ্যাশন হাউসগুলো বেশিরভাগই সুতি কাপড় দিয়ে তাদের পোশাক তৈরি করে থাকেন। কাজেই আপনার পছন্দসই পোশাক কিনে নিতে পারেন যে কোনো ফ্যাশন হাউস থেকে।

এই গরমে নিজেই হয়ে উঠুন আপনার আদরের শিশুটির চিকিৎসক

গরমে শিশুরা বড়দের তুলনায় অনেক বেশি ঘেমে যায়। এ সময় মৌসুমজনিত নানারকম সমস্যাও দেখা যায়। গরমে শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এ সময় শিশুর খাওয়া-দাওয়া, গোসল ও পোশাক নির্বাচনের সময় মায়েদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। শিশুর প্রতি বিশেষ যত্ন নিলে এসব সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
প্রয়োজনীয় কিছু পরমার্শ
ক. গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।
খ. বাইরে বের হলে শিশুর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে।
গ. শিশু ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে। শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠাণ্ডা লাগতে পারে।
ঘ. গরমে যতটা সম্ভব শিশুকে নরম খাবার খাওয়ানো ভালো।
ঙ. শিশুর ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন র‌্যাশ জাতীয় সমস্যা না হয়।
চ. গরমে শিশুকে প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে, যেন প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।
ছ. সদ্যজাত শিশুদের সবসময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন তাদের শরীর উষ্ণ থাকে। তবে
খেয়াল রাখতে হবে সে যেন ঘেমে না যায়।
গরমে শিশুদের সাধারণত যে সমস্যাগুলো বেশি হয়ে থাকে যা হচ্ছে জলবসন্ত, র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি, পেট খারাপ, চামড়ার অসুখ, ঠাণ্ডার সমস্যা।
জলবসন্ত বা চিকেন পক্স
এ সময়টায় শিশুদের জলবসন্ত হয়ে থাকে। এটা সাধারণত ১-৫ বছরের শিশুদের বেশি হয়। তবে চিকেন পক্সের টিকা নেয়া থাকলে এ রোগটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়। এ অসুখের সময় শিশুর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাকে নরম সুতি কাপড় পরাতে হবে। তরল বা নরম জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। বেশি করে পানি খাওয়াতে হবে। এর সঙ্গে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।
চামড়ার র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি
শিশুদের ক্ষেত্রে এ সম্যাটা বেশি দেখা যায়। এটা সাধারণত ঘামাচি বা চামড়ার ওপরে লাল দানার মতো ফুসকুড়ি হয়ে থাকে। এ র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি চুলকানোর কারণে শিশুকে অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল করিয়ে পরিষ্কার জামা পরাতে হবে। ফুসকুড়ির জায়গাগুলোয় বেবি পাউডার লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি কিছুটা কমে যাবে। প্রতিবার কাপড় বদলানোর সময় শিশুকে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পাউডার লাগিয়ে দিতে হবে। অনেক সময় ডায়াপায়ের কারণেও হতে পারে তাই খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা ডায়াপার যেন শিশুর গায়ে বেশিক্ষণ না থাকে। ডায়াপার নষ্ট হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিন। তবে গরমের সময় বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় র‌্যাশ বেশি হয়ে গেলে ঘা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
পেট খারাপ
গরমের সময় সাধারণত বেশি হয়ে থাকে যা তা হচ্ছে পেট খারাপ। শিশুর পেট খারাপ হলে তাকে ঘন ঘন স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সেই সঙ্গে পানি অথবা ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। একইসঙ্গে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ নিয়ম মেনে চলতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুর পানিশূন্যতা না হয় এবং তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায় তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
ছয় মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ সময় কোনো অবস্থায়ই মায়ের দুধ বন্ধ করা যাবে না। সেই সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে।
ঠাণ্ডার সমস্যা
গরমে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডার সমস্যাটাও বেশি হতে দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং তাকে সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। এ সময় ঠাণ্ডা লেগে শিশুর মামস হতে পারে। মামস অনেক সময় অল্পদিনে সেরে যায়। কিন্তু বেশিদিন গড়ালে শিশুকে এমএমআর ইঞ্জেকশন দেয়া হয়। এছাড়া বিশেষজ্ঞের পরমার্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।
This post originally appeared by Our Smart Lifestyle

আসছে গরম, এড়িয়ে চলুন ৫ খাবার

বসন্তের হাওয়া ইতিমধ্যেই জানান দিচ্ছে গরমের আগমনী বার্ত আর তার প্রভাব পড়বে শরীরে ফলে এসময় মেজাজ হয়ে ওঠে খিটখিটে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি, ঘুমে ব্যাঘাত, অমনোযোগিতা, পানিশূন্যতার মতো সমস্যা তাই এসময় শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পানের পাশাপাশি খাবার গ্রহণে হতে হবে সচেতন
গরমে অন্তত পাঁচ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত
.অতিরিক্ত মসলা
খাবারে অতিরিক্ত মসলা মসলাজাতীয় উপকরণ শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কারণে গরমের সময় খাবারে অতিরিক্ত মসলা ব্যবহার পরিহার করা উচিত

.আমিষ
পেট পুরে মাছ, মুরগি, গরু বা খাসির মাংস, তন্দুরিএসব খাওয়ার সময় নয় গ্রীষ্মকাল। এতে শরীরের তাপ বাড়ে, বাড়ে ঘাম। ধরনের খাবার গ্রহণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে

.তৈলাক্ত ফাস্ট ফুড
গরমের সময় মাংসের তৈরি বার্গার, কাবাব, ফ্রাইসহ অন্যান্য তেলজাতীয় ফাস্টফুড খাবার পরিহার করলে ভালো থাকবেন

.অতিরিক্ত চা-কফি
চা কফি শরীরের তাপ বাড়ায়। তা ছাড়া গরমে চিনিসহ কফিজাতীয় পানীয় শরীরকে পানিশূন্য করে। কারণে গ্রীষ্মের সময় যতটা সম্ভব অতিরিক্ত চা-কফি পানে বিরত থাকুন

.সস
বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বাড়ায় সস। কিন্তু সুস্থতার জন্য গরমের সময় সস এড়িয়ে চলাই উচিত। কারণ, এতে প্রচুর ক্যালোরি লবণ থাকে