শীতের এই মওসুমে কিভাবে ভালো থাকবেন ?

শীতের এই মওসুমে কিভাবে ভালো থাকবেন তা জেনে নিন তারই কিছু উপায় –

১) এই শীতে যদিও কষ্টকর মনে হয় তবুও হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। খাওয়ার আগে তো বটেই এমনকি কারও সাথে হ্যান্ডশেক করা বা দরজার নব ধরার মতো কাজের পরও প্রচুর পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। জীবাণুমুক্ত থাকুন।

২) বারবার হাত দিয়ে নাক, মুখ বা চোখ ধরবেন না। কারণ এসব অঙ্গের মাধ্যমে খুব সহজে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

৩) জীবানুর হাত থেকে বাঁচতে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমান। কারণ শরীর ক্লান্ত থাকলে এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

৪) পুষ্টিকর খাবার খান। প্রতিদিন আপনার খাদ্য তালিকায় তাজা ফল, সবজি, মাছ রাখুন। এসব খাবার শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখতে কাজ করে। তাই সহজে সর্দি, কাশি, ফ্লু আক্রমণ করতে পারে না।

৫) প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম শরীরের কোষ গুলোকে উজ্জীবিত করে, রক্ত সঞ্চলন বাড়ায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৬) ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছেন এমন লোকদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন কারণ এসব অসুখ খুব দ্রুত ছড়ায়

) ধূমপান থেকে বিরত থাকুন ধূমপান করার কারণে শরীরের বিভিন্ন কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হয় যার কারণে আমাদের অনেক ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় ফলে সংক্রামিত হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়

) একই বাটি, গ্লাস থেকে খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন এগুলো থেকেও জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে এছাড়া সালাদ, ফলের জুস খাওয়ার সময়ও সতর্ক থাকুন ভালভাবে ফল, সবজি ধুয়ে নিন খোলা খাবার খাবেন না

) হাতের ব্যাগ থেকেও জীবাণু ছড়াতে পারে তাই শীতের সময় কাপড়ের ব্যাগের বদলে লেদার প্রোডাক্ট ব্যাবহার করুন একাধিক ব্যাগ ব্যাবহার করতে পারলে সবচেয়ে ভালো

১০) হাতের নখ নিয়মিত কেটে নিন এবং পরিষ্কার রাখুন

১১) হাঁচি, কাশি দেওয়ার সময় রুমাল ব্যাবহার করুন এবং রুমাল প্রতিদিন স্যাভলন পানিতে ধুয়ে নিন

১২) প্রচুর পানি পান করুন পানি শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে

এসব সতর্কতার পরও সমস্যা সৃষ্টি হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন

কিভাবে আপনার সুন্দর ত্বক আরও উজ্জ্বল করবেন

) ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে হলুদ বাটা ও চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে লাগান

) কাঁচা হলুদ বাটা, ময়দা ও দুধের স্বর এক সাথে মিশিয়ে ভালো করে মুখে মাখুন ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন

) মধু, জলপাই তেল, চন্দন বাটা ও এক চিমটি হলুদের মিশ্রন মুখে মাখলে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে

) শসার রস মুখে লাগিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট রাখার পর এক কাপ পানিতে অর্ধেক পরিমাণে লেবুর রস মিশিয়ে সে পানিতে তুলো ভিজিয়ে তা দিয়ে শসার রস তুলে ফেলুন

) তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে দইয়ের সাথে লেবুর রস মিলিয়ে সারা মুখে মেখে রাখুন তারপর কয়েক মিনিট পর ভেজা তুলো দিয়ে মুছে ফেলুন

) গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাধাকপি ও শসার নির্যাস একসাথে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে তা ত্বককে মসৃন করে তোলে

) ত্বকের হারানো উজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনার জন্য আমন্ড, বাদামি গোলাপের পাপড়ি এবং দুধের স্বর দিয়ে বাটে মুখে লাগান

) ত্বককে টানটান করার জন্য ত্বকে লেবুর খোসা ঘষুন লেবুর খোসায় উপস্থিত অ্যাসিটনজেন্ট লোমকূপ বন্ধ করে ত্বককে টানটান করে

) ত্বকে যদি অন্যরকম এক আভা নিয়ে আসতে চান তাহলে মসূর ডাল বাটা, নিম পাতা বাটা, কাঁচা হলুদ বাটা, দই, মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন

রুপচর্চায় লেবুর রসের উপকারিতা

১) মুখের শ্রী বৃদ্ধি করার জন্য এক টুকরো লেবুর রসের সাথে দুই চামচ দুধ মিশিয়ে তুলার সাহায্যে মুখে প্রলেপ লাগান। ১৫ – ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলু্ন।

২) মুখের ব্রন এবং ব্রনের দাগ স রানোর জন্য লেবুর রস ত্বকে মাখা একান্ত দ রকার। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রনের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। লেবু কিংবা গাজরের রস অল্প একটু চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে এর হাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়।

৩) আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বকে আদ্রতা আনবে। মেক আপ করার আগে মুখে এই রূপটানটি লাগালে মুখ উজ্জল হবে।

৪) মুখের বলিরেখার দাগ আপনার সাজ নষ্ট করে দেয়। ১০ গ্রাম লেবুর রস এবং ১০ গ্রাম টমেটোর রস একত্রে মিশিয়ে বলিরেখার উপর লাগিয়ে ৫ মিনিট পর রেখে ধুয়ে নিন। বলিরেখা থাকবে না।

৫) পাকা কলা, লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ২০ – ২৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। আবার লেবুর রসের সঙ্গে দুধ ও চন্দনের গুড়া দিয়ে পেস্ট করে পোড়া জায়গায় ম্যাসেজ করলে উপকার পাওয়া যায়।

৬) লেবুর রস ও শসার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন। ব্যাস তৈরী হয়ে গেল অ্যান্টিজেন্ট লোশন। এটি ত্বকে লাগিয়ে দেখুন। কয়েকদিনের মধ্যেই ত্বকের তেলতেলে ভাব কমে যাবে।

৭) হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের গোড়ালি এসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে। এ নিয়ে অনেকের ই দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। আধা টুকরো লেবু নিয়ে এই জায়গাগুলোতে ভাল করে ঘষে নিলে ময়লা উঠে গিয়ে ঝকঝকে হয়ে উঠবে।

মুখের কালো দাগ দূর করার উপায় কি ?

মুখের কালো দাগের সমস্যায় পরে অনেকেই নানা রকম ফেয়ারনেস ক্রিম, আর এর ওর কথায় আবোল তাবোল জিনিস লাগিয়ে ত্বক নষ্ট করেন তবে মনে রাখবেন, ত্বক খুব সেনসিটিভ অতএব এই ত্বকে যা তাই লাগাবেন না সবচেয়ে ভাল প্রাকৃতিক কিছু লাগানো অনেকে কয়েকদিন হারবাল উপায়ে রুপচর্চা করে ফল না পেয়ে ধৈর্য্য হারিয়ে ব্যবহার বন্ধ করে দেন

মনে রাখবেন, আপনি এক বারেই ফল পাবেন না, ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আর মুখ লুকিয়ে থাকা নয়, বেরিয়ে পড়ুন খোলা হাওয়ায়। মুখের কালো ছাপ দূর করবেন, চিন্তা নেই প্রাকৃতিক কিছু ভেষজ উপাদান রয়েছে যা প্রয়োগে আপনি সহজেই আপনার মুখের উজ্জ্বাল্য ফিরে পেতে পারেন। চলুন সেই পদ্ধতিটা কি তা জেনে নিই।

১) লেবু ত্বকের জন্য ভীষন উপকারী। যে কোন ধরনের ফেস প্যাকেই আপনি লেবুর প্রয়োগ করতে পারেন। লেবু সহজে কালো ছাপ দূর করবে।

২) মুখের কালো ছাপ দূর করতে হলে, দুধের স্বরের মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। কিছুক্ষন পর গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

৩) টমেটোর রসের মধ্যে অল্প হলুদ মিশিয়ে মুখে লাগান, ফল পাবেন।

৪) আঙুরের রসের মধ্যে মধু মিশিয়ে মুখে লাগালে মুখের চমক বাড়বে।

এছাড়াও পাকা পেঁপে আপনার এই সমস্যা দূর করে দিবে। যদি মুখে বেশি কালো দাগ হয়ে যায় তাহলে শশা, পেঁপে আর টমেটোর রস সম পরিমাণে মিশিয়ে মুখে লাগান। এই পেস্টটা যখন শুকিয়ে যাবে তখন দ্বিতীয় বার আবার এই পেস্টটা লাগান। এই ভাবে তিন চার বার এই পেস্টটা লাগান।

২০ মিনিট পেস্টটা লাগিয়ে রাখার পরে মুখটা ভালো করে উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এই ভাবে ১৫-২০ দিন ঐ পেস্টটা  লাগালে আপনার মুখের কালো ছাপ অনায়াসে দূর হয়ে যাবে।

নিরাপদে ফর্সা হওয়ার কিছু টিপস

) ১ টেবিল চামচ গুড়ো দুধ, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং আধা টেবিল চামচ বাদামের তল ভাল্ভাবে মিশিয়ে মুখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার করুন। এই প্যাকটি মুখে শাইন আনবে আর রোদে পোড়াভাব দূর করবে।

) বেসন, দুধ ২ চামচ এবং  লেবুর রসের মিশ্রন মুখে, গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন সপ্তাহে ২ বার এটা লাগান, আপনার গায়ের রং অবশ্যই উজ্জল হবে

৩) আপনার যদি টমেটোতে অ্যালার্জি না থাকে তাহলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রসের সাথে টমেটোর ক্লাথ মিশিয়ে ফর্সা ত্বকের জন্য মুখে এবং গলায় ব্যবহার করুন আর ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

৪) আধা কাপ চায়ের লিকার (ঠান্ডা), ২ চামচ চালের গুঁড়ো, আধা চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। চালের গুঁড়ো স্ক্রাবার হিসাবে কাজ করবে আর মধু মুখের আর্দ্রতা বজায় রাখবে।

৫) শশার রস আর মধু সমান পরিমাণ নিয়ে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। তৈলাক্ত ত্বকে মধুর পরির্বতে লেবুর রস ব্যবহার করতে হবে।

৬) সপ্তাহে একবার পাকা কলা চটকিয়ে মুখে লাগান আর ৩ থেকে ৪ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মুখে লুকিয়ে থাকা সব ময়লা নিমিষে পালিয়ে যাবে আর আপনি হয়ে উঠবেন আরও আকর্ষনীয়

যৌনাঙ্গে ইচিং বা চুলকানির কারন ও তার প্রতিকার

আমরা যারা মেয়ে, আমাদের প্রতিদিন কতই না সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় ঘর থেকে শুরু করে শরীরের সব দিক থেকে অনেক ঝাকেলায় পড়তে হয় আজকে মেয়েদের একটি অতি পরিচিত এবং অতি বিব্রতকর একটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো আর তা হলো যৌনাঙ্গে ইচিং বা চুলকানি এটি খুবই কমন একটি অসুখ মেয়েরা ৫ বছর থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়সের যে কোন সময় এই সমস্যায় পড়তে পারেন গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে, প্রতি ৪ জন মহিলার মধ্যে ৩ জনেরই জীবনের কোন না কোন সময় একবার হলেও এই সমস্যায় ভুগে থাকেন তাই এর গুরুত্বও কম নয় চলুন আজ এই অসুখটি সম্পর্কে জানি

ইচিং বা চুলকানি হওয়ার কারনঃ
কোন অসুখ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের আগে আমাদের জানতে হবে আসুখটার কারণ কি? কেনোনা কারণ জানলে মোকাবেলা সহজ হয় যোনিতে অনেক কারণে চুলকানি হতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ সমুহ হলো---

) ঈস্ট বা ছত্রাকের আক্রমনঃ
এটি যৌনাঙ্গের চুলকানি বা ইচিং হওয়ার অন্যতম কারণ সাধারণত Candida Albicans, এই ছত্রাকের কারণে যোনিতে চুলকানি হয় এই ছত্রাক নরমালি মেয়েদের যৌনাঙ্গে পরজীবী হিসেবে থাকে কিছু ল্যাকলোব্যাসিলাস নামে ইয়পকারি ব্যাকটেকিয়া এই ছত্রাকের বংশবিস্তারকে নিয়ত্রনে রাখে কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক খেলে, গর্ভাবস্থায়, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকলে, হরমোনাল ইমব্যালেন্স থাকলে ও খাদ্যাভাসের কারণে এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া মরে যায় ফলে ঈস্ট গুলো তাদের জন্মের জন্য অনুকুল পরিবেশ পায় এর কারণে যোনিতে ইনফেকশন হয়

উপসর্গঃ
যোনি পথ দিয়ে ঘন, সাদা তরলের নির্গমন হয়
চুলকানি, ব্যাথা ও প্রদাহ হয়
যৌন মিলনের সময় ব্যাথা হয়

) ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের সংক্রমণঃ
এটি ভ্যাজাইনা বা যোনিতে চুলকানি হওয়ার অন্যতম কারণ যোনিতে নরমালি কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে যখন কোন কারণ এই ব্যাকটেরিয়া গুলোর অনেক বেশি বংশবিস্তার ঘটে তখন যোনিতে ইনফেকশন হয়

উপসর্গঃ
গন্ধযুক্ত ও মাছের আঁশটে গন্ধযুক্ত তরল নির্গত হয় যোনি দিয়ে
প্রচুর চুলকানি হয়
প্রসাবের সময় জ্বালাপোড়া হওয়া

) ট্রাইকোমোনিয়াসিস এর আক্রমণঃ
এটি একটি প্যারাসাইট এটির আক্রমণে যোনিতে চুলকানি হয়

উপসর্গঃ
হলুদ, সবুজ রঙের ও খুব তীব্র বাজে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হয়
তলপেটে ব্যাথা হয়
যোনিতে চুলকানি হয়

) এছাড়াও যৌনাঙ্গে উকুন, খোসপাঁচড়া ও মাইকোপ্লাজমা জেনেটালিয়াম এর সংক্রমণ হলে যোনিতে চুলকানি হয়

) কিছু সেক্সয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ যেমনসিফিলিস, গনোরিয়া, এইডস ইত্যাদির কারণে যৌনাঙ্গে ইচিং বা চুলকানি হয়

) বিভিন্ন বিরক্তিকর পদার্থ যেমনবিভিন্ন ডিটারজেন্ট, কেমিক্যাল, সুগ্নধিযুক্ত সাবান, রঙ ওয়ালা টিসু পেপার, ফেমেনিন হাইজেনিক স্প্রে, ডুশ ব্যবহার করলে যোনিতে চুলকানি হতে পারে

) মেনোপোজের পর মহিলাদের ইস্ট্রোজেন নামক হরমোন কমে যায় ফলে যোনি শুকিয়ে যায় এর ফলে বিভন্ন পরজীবীর সংক্রমণ হয়। ফলে যোনিতে ইচিং হয়।

৮) ডায়াবেটিস, রেনাল ডিজিজ, একজিমা ও রক্তে কোন রোগ থাকলে ও অন্যান্য কোন রোগ থাকলেও যৌনাঙ্গে চুলকানি হয়।

৯) মাসিকের সময়, অস্বাস্থ্যকর প্যাড ও কাপড় ব্যবহার করলে।

১০) যৌনকর্মীদের এই রোগ বেশি হয়।

১১) যৌনাঙ্গ সবসময় গরম ও আদ্র রাখলে।

১২) অপরিষ্কার থাকলে।

এই রোগের প্রতিকারঃ
১) ছত্রাকের সংক্রমণে হলে, অ্যান্টিফাংগাল ঔষধ যেমন – ketoconazole, miconazol, clotrimazole, tioconazole, fluconazole ইত্যাদি ঔষধ খেতে হয় ৩ থেকে ৫ দিন তবে কিছু ওষুধ ১ দিনেও কাজ করে তাই ডোজ ও কতদিন খাবেন তা জানতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এছাড়া lactobacillus acidophilus ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে এর সাথে

) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগস খেতে হয়।। যে অ্যাটিবায়োটিক খান না কেন তা ৫ থেকে ৭ দিন খাবেন

৩) প্যারাসাইটের সংক্রমণ হলে metronidazole খেতে পারেন এছাড়াও vaginal clindamycin cream (clencin) or tinidazole এই গুলো যোনিতে লাগাতে হবে

) বেশি চুলকানি হলে lidocaine  নামক জেল আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন এতে সাময়িক আরাম পাবেন তাই ডাক্তার দেখাতে ভুল করবেন না

) চুলকানি কমানোর জন্য এন্টিহিস্টামিন যেমনfexofenadine, loratadine খেতে পারেন

) এছাড়া প্রদাহ কমাতে steroid cream ব্যবহার করা যেতে পারে

) মেনোপোজের পর চুলকানি হলে ইস্ট্রোজেন সাপোজেটরি যোনি পথে ব্যবহার করা যেতে পারে

কিভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করবেন?
বলা হয়ে থাকে যে কোন অসুখ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করাই বেশি ভাল সুতারাং এই রোগটি যাতে আপনার না হয় তাই আগেই সাবধান থাকুন ও নিচের কথা গুলো মেনে চলুন

) রঙ্গিন ও বেশি সুগ্নধিযুক্ত টয়লেট টিসু ও সাবান যৌনাঙ্গে ব্যবহার করবেন না
) ফেমেনিন হাইজিন স্প্রে ও ডুশ ব্যবহার করবেন না
) ভেজা কাপড় পরে বেশিক্ষণ থাকবেন না গোসল বা ব্যয়ামের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভেজা কাপড়টি পাল্টে নিবেন যারা সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন তাদের ক্লোরিনের কারনেও ইচিং হতে পারে, তাই সাবধান হ

কিভাবে স্লিম থাকা যায় ?

শরীর যদি মোটা হয়ে যায় তাহলে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হতে হয়। তাই বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পেতে আমাদের স্লিম থাকা একান্ত প্রয়োজন। আসুন জেনে নিই স্লিম থাকার কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে ---

১) রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন।

২) রাতে খাওয়ার পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট পায়চারি করুন।

৩) দুধ, ছানা ও টকদই খান প্রচুর পরিমাণে। তবে এগুলো ফ্যাট ফ্রি হতে হবে।

৪) খেতে বসার আগেই প্ল্যান করে নিন কি খাবেন আর কতটুকু খাবেন। পরিকল্পনা থাকতে কম খাবেন। আর না থাকলে বেশি ক্যালরি খেয়ে নাওয়ার প্রবণতা থাকবে।

৫) লো-ক্যালোরিযুক্ত খাবার মানেই যে সিদ্ধ, বিস্বাদ খাবার তা কিন্তু নয়। সুস্বাদু করে রান্নার পদ্ধতি জেনে নিন।

৬) খাবার আস্তে আস্তে চিবিয়ে খাবেন। এতে মুখের ভেত্রের এনজাইম বেশি সক্রিয় হয়ে উঠে, যা কম খাবারে পেট ভরাতে সাহায্য করে।

৭) দিনে যেকোন একটা ফল বা তরকারী কাঁচা খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৮) প্রতিদিন একই ফল, খাবার, তরকারী খাবেন না। সবকিছু মিশিয়ে খেলে পুষ্টির পরিমাণ ঠিক থাকবে। খেতে একঘেয়েও লাগবে না।

মেয়েদের হার্ট সুরক্ষায় যা করনীয়

হার্টের সমস্যা শুধু পুরুষদেরই হয়ে থাকে তা নয়, একটি পর্যাপ্ত বয়সে নারীদেরও হার্টের সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা বেশির ভাগ সময়েই পুরুষ মানুষের হার্টের সমস্যা সম্পর্কে শুনে থাকি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নারীদের শরীরেও দেখা দিতে পারে নানা রকমের সমস্যা এবং নানাবিধ শারীরিক সমস্যার মধ্যে হার্টের সমস্যাটিও এখন নারীদের মধ্যে অনেক বেশি পরিমাণে দেখা দিয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নিই নারীদের হার্টের অসুখ সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

হার্ট অ্যাটাক আসলে কি?
একেবারে হঠাৎ করেই আক্রান্ত হতে পারে মানুষের হার্ট। চিরকালর জন্য বিকল হয়ে যেতে পারে পেশিবহুল এই পাম্পটি। হার্টের পেশিতে যে সব ধমনি রক্ত সরবরাহ করে তাদেরকে বলে করোনারি আর্টারি। এই করোনারি আর্টারি কোনো কারণে ব্লক হলে হার্টের পেশির যে অংশটিতে রক্ত সরবরাহ হচ্ছে সেই পেশিটি বন্ধ হয়ে যায়। আর্টারি ব্লক হওয়ার জন্য হার্টের পেশির কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়াকেই হার্ট অ্যাটাক বলে।

নানা কারণে হার্টের কোরোনারি আর্টারিতে চর্বি জমা হয়ে আর্টারিতে আংশিক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। তার সাথে রক্ত জমাট বাঁধলে কিংবা স্পেজম হলে আর্টারি ব্লক সম্পুর্ন হয়ে যায়। এই ব্লকের সময় সীমা যদি ২০ থেকে ৩০ মিনিট থাকে তাহলেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়। তবে ব্লক যদি ওই সময়ের মধ্যে খুলে যায় তা হলে রোগী তখনকার মত বেঁচে যায়।

কোন বয়সে হার্ট অ্যাটাক হয়?
নারীদের হার্টের সমস্যা হয় একটু বেশি বয়সে। মেনোপজের (পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর নারীরা এই রোগে আক্রান্ত হন। কারণ এই সময় নারীদের শরীরে প্রজেস্টেরন এবং এস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা অনেক কমে যায়। তখন পুরুষ ও নারীদের হার্ট অ্যাটাকের অনুপাত একই হয়ে যায়।

হার্ট অ্যাটাক রুখতে যা করনীয়
পুরুষ এবং নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই হার্টের রোগের প্রধান কারণ উচ্চ রক্ত চাপ, হাই কোলেস্টোরল, রোগের বংশগত ধারা, বয়স এবং ধূমপান। এক মুহুর্ত ভেবে দেখুন, আপনার লাইফস্টাইল, বংশের ধারা, সাধারণ স্বাস্থ্য কেমন। প্রথম থেকেই সুস্থ জীবনযাপনের তালিকা মেনে চললে হার্টের সমস্যা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। সঠিক খাওয়া দাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, নির্দ্রিষ্ট সময় ঘুমাতে যাওয়া এমন কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই “হ্যাপি হার্ট” এর অধিকারী হতে পারবেন।