আসুন জেনে নিই তেজপাতার ৭ টি ভেষজ গুনাগুন

তেজপাতা এক প্রকারের উদ্ভিদ, যার পাতা মসলা হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। সাধারণত এর বৈজ্ঞানিক নামঃ Cinnamomum tamala এই গাছটি মূলত ভারত, লেপাল, ভুটান ও চীন ইত্যাদি দেশে অধিক জন্মে

কেবল কি খাবারের সুগন্ধি বাড়াতেই এর ব্যবহার ? নাকি আছে আর ও কিছু গুন ? আসুন জেনে নিই তেজপাতার এমন ৭ টি ব্যবহার যেগুলো আপনি আগে জানতেন না

তেজপাতা ভিটামিনস ও মিনারেলসে ভরপুর এতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও পটাসিয়াম রয়েছে এছাড়া ১০০ গ্রাম তেজপাতা থেকে ২৩ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৪৩ মিলিগ্রাম আয়রন, .৭ মিলিগ্রাম জিংক, .৮ মিলিগ্রাম সিলেনিয়াম পাওয়া যায়।

১) ঘামাচি সারায় তেজপাতাঃ ঘামাচি দূর করার জন্য তেজপাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পাটায় মিহি করে বাটে নিন। এই তাজপাতা বাটা শরীরে মেখে ঘণ্টা খানেক রাখুন। তারপর গোসল করে ফেলুন। কোন রকম সাবান ব্যাবহার করবেন না। কয়েকবার ব্যাবহার করলেই ঘামাচি একদম সেরে যাবে।

২) চোখ ওঠা উপশমঃ তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন । সেই পানি ঠান্ডা করে চোখ ধুতে ব্যবহার করুন । চোখ ওঠা দ্রুত আরোগ্য হবে । সকালে ও বিকালে দুই বেলা দেবেন ।

৩) ফোঁড়া সারাতেও কার্যকরীঃ ফোঁড়া সারানোর জন্য তেজপাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন । দ্রুত সেরে যাবে ।

৪) দূর্বলতা দূর করেঃ শারিরিকভাবে দূর্বল ও রোগা মানুষদের জন্য তেজপাতা দারুণ কার্যকারি । কয়েকটা পাতা থেঁতলে ২ কাপ গরম পানিতে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন । এরপর ছেঁকে নিয়ে পান করুন । ২ বার করে টানা ২ সপ্তাহ খেলে শরীরে শক্তি ও চেহারায় লাবণ্য ফিরে পাবেন ।

৫) গলা ভাংগা দ্রুত সারাবেঃ চটজলদি ভাংগা গলা ঠিক করতেও তেজপাতার বিকল্প নেই । ৭ গ্রাম তেজপাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ করে নিন । এরপর ঐ পানি দিয়ে গড় গড়া করুন । গলা ভাংগা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে

৬) মাড়ির ক্ষতের চিকিৎসায় দারুণ উপকারীঃ মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে ? তেজপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন । তারপর সেটা দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজুন । মাড়ির ক্ষত সেরে যাবে ।

৭) অরুচি দূর করেঃ তেজপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে নিয়মিত কুলি করুন, অরুচি ও মুখের তিতো ভাব চলে যাবে ।

চা – কফি কি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক ?

অফিসে অনেককেই রাত জেগে কাজ করতে হয়,আর তাই আপনাকে জাগিয়ে রাখার জন্য এবং কাজে মন সংযোগ বাড়ানোর দায়িত্ব পালন করে চা অথবা কফি, কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জানিনা এই চা, কফির মধ্যে থাকে ক্যাফেন বলে একটি পদার্থ, আর এই পদার্থটির জন্যই আপনি জেগে থাকেন এবং কাজ করার শক্তি পান, কিন্তু জানেন কি এই পদার্থটি আপনার শরীরে রীতিমত কত ক্ষতি করে ? অল্প পরিমান খেলে কোন ক্ষতি না করলেও, বেশি পরিমান খেলে এটি শরীরের পক্ষে খুব ক্ষতিকারক হয় । এই ক্যাফেন খুব বেশি পরিমানে শরীরে গেলে আপনার মাথা যন্ত্রনা, বিষন্নতা, বার বার প্রসাব করা এই সব সমস্যায় ভুগবেন । এমনকি আপনার বমি বমি ভাব, শারিরিক জোর কমে যেতে পারে ।

এক গবেষনায় দেখা গেছে যে, যারা দিনে তিন কাপের বেশি কফি পান করেন তাদের রাতের ঘুমেও ভীষন প্রভাব পড়ে, যারা মা হতে চলেছেন তাদের শরীরের দূর্বলতা, এমনকি তার বাচ্চার ক্ষতির কারন এই চা বা কফি ।

তাই যদি এই অতিরিক্ত পরিমানে কফি না খেয়ে একটু গ্রীন টি খেতে পারেন। তাহলে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে আর আপনি শারীরিক অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।


বেশি দুধ পান করলে আমাদের শরীরের কি ক্ষতি হতে পারে ?

আমরা সকলেই জানি যে দুধ আমাদের শরীরের পক্ষে বেশ উপকারী । এতে আছে ভরপুর ক্যালসিয়াম এবং আরও অনেক পুষ্টিকর উপাদান । ডাক্তাররা সবসময় পরামর্শ দেন যে বাড়ান্ত বাচ্চাদের খাওয়ানো উচিত । এবং নিজেদের শরিরের সক্ষমতা এবং শক্তি বাড়াতে আমরা অনেকেই খাবারের তালিকায় দুধ যোগ করি ।

কিন্তু সম্প্রতি একটি গবেষনায় দুধের সম্পর্কে এক অজানা তথ্য উঠে এসেছে । যা ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে । এই গবেষনাটিতে বলা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরিমাত্রায় দুধ খাওয়াটা স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর স্বরুপ হতে পারে। সুইডিশ গবেষনায় বলা হয়েছে যে, দিনে দুই থেকে তিন গ্লাসের বেশি দুধ খাওয়াটা আমাদের অকাল মৃত্যুর কারন হতে পারে ।

এই গবেষনার গবেষকরা জানাচ্ছেন যে, দুধের এই ধরনের অদ্ভুত প্রভাবের কারন হলো অতিরিক্ত দুধ খেলে আমাদের শরীরের খুব বেশি পরিমাণ ল্যাকটোজ এবং গ্যালাকটোজ জমে যায় । আর এই উপাদান গুলোর জন্য আমাদের শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং ক্রনিক ইনফ্লামেশন খুব বাড়িয়ে তোলে যা আমাদের হঠাৎ মৃত্যু বা অকাল মৃত্যুর কারন হতে পারে ।

তবে দুধ দিয়ে তৈরী চিজ, ইয়োগহার্ট আমাদের শরীরের হাড়ের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল বলে প্রমানিত হয়েছে । এর কারন হলো, এই খাবার গুলোতে বা দুধের দ্বারা তৈরী খাবারগুলোয় ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকলেও ল্যাটোজ এবং গ্যালা্কটোজের পরিমাণ অনেকটা কম থাকে ।

তাই তারা সবাইকে একটাই পরার্মশ দিচ্ছেন যে, তা পরিমিত খান বেশি বা রোজ রোজ একদম নয় ।

যে সব খাবারে ১০ গুন বাড়িয়ে দিবে আপনার কাজের গতি

বেশিরভাগ মানুষের বর্তমানে শারিরিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেশি কাজের ভার সইতে না পারে না, অল্পতেই ক্লান্ত লাগে, ঠিক মতো কাজে মন বসাতে সমস্যা হয়, বেশিক্ষণ কাজে মন বসাতে চায় না ইত্যাদি । এর কারন কি ? এর কারন হচ্ছে আমাদের দেহে সঠিক ও সুষ্ঠু খাবারের অভাব । আমরা খাবার খাই ঠিকই, কিন্তু সঠিক ও এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া হয় না । যার ফল শ্রুতে শরীরের এনার্জির অভাব হয় ।

কিন্তু এভাবে না চলে শরীরকে দিন সুষ্ঠু এবং সুষম খাবার । এতে শরীর পর্যাপ্ত এনার্জি পাবে এবং আপনার কাজের গতি বেড়ে যাবে প্রায় ১০ গুন বেশি । চলুন দেখে নিই এমনই কিছু অসাধারন খাবারের একটি তালিকাঃ

১) ডিমঃ প্রতিদিন অন্তত একটি ডিম খাওয়ার চেষ্টা করবেন । যাদের কোলেস্টোরলের সমস্যা আছে তারা ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে ডিম খাবেন প্রতিদিন । ডিমের ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, বায়োটীন এবং ক্লোরিন দেহে পর্যাপ্ত এনার্জি সরবরাহের পাশাপাশি দেহে যোগাবে পুষ্টি । এছাড়া বায়োটিন ও ক্লোরিন মস্তিষ্ককে রাখবে সচল । এতে করে আপনার কর্মক্ষ্মতা বেড়ে যাবে ।

২) নারকেলের দুধ ও অপ্রক্রিয়াজাত নারকেল তেলঃ নারকেলের দুধ রয়েছে স্যাচ্যুরেটেড ফ্যাটি এ্যাসিড এবং মিডিয়াম চেইন ট্রাইগাইসেরাইড । যা দেহে পর্যাপ্ত এনার্জি সরবরাহ করে আমাদের কাজের গতি বাড়ায় এবং খুব স হজে বডি ফুয়েল হিসেবে ক্ষয় হয়ে যায় । অপ্রক্রিয়াজাত নারকেল তেল বাটারের পরিবর্তে ব্যাবহার করা যায় । এর অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিএইজিং ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমূহ দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে ।

৩) দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারঃ দুধ এবং দুধের তৈরি নানা খাবার, যেমন দই, চিজ, বাটার ইত্যাদি দেহের জন্য উপকারী ব্যাটেরিয়ার জন্ম দেয় এবং দেহ রাখে সুস্থ । এই সকল খাবারের কনজুগেটেড লিনোলেইক এসিড রোগ প্রতিরোধ ক্ষতা বৃদ্ধি করে ।

৪) খাসির মাংশঃ দেহের জন্য প্রাণীজ প্রোটিন এবং আমিষের  প্রয়োজনীতা রয়েছে । গরুর মাংস উচ্চ মাত্রার কলেস্টোরল সমৃদ্ধ বলে এর পরিবর্তে দেহের প্রাণীজ আমিষের অভাব খাসির মাংস পুরন করতে পারে । এর পাশাপাশি ভিটামিন ই, বেটাক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং ওমেগাফ্যাটি এসিড দেহের অঙ্গ প্রতঙ্গের সুরক্ষায় কাজ করে ।

৫) হাড় এবং হাড়ের ক্যালসিয়ামঃ গরু, খাসি, মুরগির হাড় আমরা সাধারণত ফেলে দিয়ে থাকি। কিন্তু হাড় এবং হাড়ের ভিতরকার ক্যালসিয়াম আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকরি খাবার। গরু খাসির হাড়ের তৈরি খাবার (যেমনঃ নেহারি) আমাদের দেহের হাড়ের জন্য বেশ উপকারী। এই খাবার গুলো দেহের ইনফ্লেমেশন, ইনফেকশন দূর করে এবং ইমিটন সিস্টেম উন্নত করে।

অপরিসীম উপকারি সবজি সীম


শীত কালিন সবজি হিসাবে সীমের কদর বেশি। শুধু রসনা বিলাসিই নয়, অন্যান্য খাদ্যগুন ও রয়েছে। সীমে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। এখন দেখা যাক সীমের কি কি খাদ্যগুন রয়েছে—

১) সীম পরিপাকের জন্য খুব ভালো। এছাড়া সীম দেহ ঠান্ডা রাখে।

২) সীমে ক্যালরির পরিমান বেশ কম থাকে। তাই যারা সরাসরি প্রোটিন খান না, তারা সীম খেতে পারেন।

৩) বড় আকারের সীম রুচিকর, বাতের ব্যাথা কমায়, খিদে বাড়ায় ও মুখের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে।

৪) বিছে কামড়ালে সীম পাতার রস দিনে ২ বার করে ৩ দিন করে লাগালে আরাম পাওয়া যায়।

৫) সীমের ভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুন ও এটির মধ্যে থাকা খনিজ চুল পড়া রোধে কাজ করে। এছাড়া চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

৬) শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। পরির্চার অভাবে চামড়ার উপরিভাগ ফেটে যায়। নিয়মিত সীম মাখলে ত্বক উজ্জ্বল ও নরম থাকে। চর্ম রোগ ও উধাও হয়ে যায়।

৭) সীমের পুষ্টিগুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শুধু বাড়িয়েই দেয় না, রোগকে শরীর থেকে দূরে রাখে। বাজারে যতদিন সীম পাওয়া যায় ততদিন প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।

৮) সীমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন গুন হলো, কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে এটি বেশ কার্যকর। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য আক্রান্ত রোগীদের জন্য বেশ ঊপকারি।

৯) সাদা সীম বাতের ব্যাথা ও কফ বিনাস করে। হলদেটে সীম সবচেয়ে উপকারি।

১০) চুন ও সীম পাতার রসের প্রলেপ ২ - ৩ বার করে ৪ – ৫ দিন কানের লতির বা কর্ন মূলের ফোলা কমে যায়।গলায় ব্যাথা হলেও ঘরোয়া এই ঔষধ ব্যাবহার করতে পারেন।

আসুন জেনে নিই, তেঁতুলের উপকারিতা কি ?

তেঁতুল খেলে ক্ষতি হয় – এমন একটা ধারনা প্রচলিত আছে বহু দিন ধরে । মুরব্বিদের কেউ কেউ বলেন, রক্ত পানি হয়ে যায় । তবে এ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে সে রকম কিছু পাওয়া যায়নি । বরং যা জানা যায় তা নিচে দেওয়া হলো—

১) হার্টের রোগ সহ বিভিন্ন রোগে খুব উপকারী তেঁতুল । হার্টের রুগীদের জন্য বিশেষ উপকারী ।

২) এতে রয়েছে প্রচুর ভেষজ ও পুষ্টিগুন ।

৩) তেঁতুল দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে ।

৪) রক্তে কোলষ্টেরল কমায় ।

৫) তেঁতুল চর্বি কমানোয় বেশ বড় ভুমিকা রাখে ।

৬) এতে কোলষ্টেরল ও ট্রাইগ্রাইসেরাইডের মাত্রা এবং রক্তচাপ স্বভাবিক রাখতে সাহায্য করে ।

৭) তেঁতুল শরীরের মেদ কমাতে কাজ করে ।

৮) এতে টারটারিক এ্যাসিড থাকায় খাবার হজমে সহায়তা করে ।

৯) শরবত করেও খাওয়া যেতে পারে । পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালায় এ শরবত কার্যকর পথ্য ।

১০) তেঁতুল গাছের বাকলেও উপকার আছে । শুকনো বাকলের প্রলেপ ক্ষতস্থানে লাগালে ক্ষত সারে ।

১১) বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরানো ও রক্তের প্রকোপে তেঁতুল বেশ উপকারী ।

১২) কাঁচা তেঁতুল গরম করে আঘাত পাওয়া স্থানে প্রলেপ দিলে ব্যাথা সারে ।

১৩) পুরনো তেঁতুল খেলে আমাশয়, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট গরমে উপকার পাওয়া যায় ।

১৪) পুরনো ও পাকা তেঁতুল খেলে কাশি সারে ।

আমাদের শরীরে এলাচের উপকারিতা কি ?

এলাচকে বলা হয় মসলার রাণী । এলাচ সুগন্ধিযুক্ত একটি মসলা । খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ বাড়ানোর জন্য এলাচ ব্যাবহার করা হয় । রান্নার স্বাদ বাড়ানো ছাড়াও এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা । নিচে এলাচের উপকারিতা তুলে ধরা হলো –

১) আপনি কি মুখের দুর্গন্ধ, মাঢ়ি দিয়ে রক্তপাত বা দাঁত ক্ষয় হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন ? তাহলে কালো এলাচ মুখে নিয়ে চাবাতে পারেন । কেননা এলাচের তেল মুখের সমস্যা দূর করতে কার্যকর একটি ওষুধ ।

২) এলাচ ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে । এ জন্য ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত এলাচ খাওয়া উচিত ।

৩)  শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হুপিংকাশি, ফুসফুস সংক্রমণ ও অ্যাজমার মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য এলাচ খুবই উপকারী ।

৪) মাথাব্যাথা থেকে তাৎক্ষনিক মুক্তি পেতে এলাচ তেল ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায় ।

৫) এটি অনুভূতি নাশক ও অস্থিরতাকে প্রশমিত করে ।

৬) কালো এলাচ হার্ট সুস্থ্য রাখে, রক্তচাপ ও ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ায় ।

৭) কালো এলাচ হার্টের রোগ প্রতিরোধ করে, হার্ট স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে । এ ছাড়া এলাচ রক্তসঞ্চালনে সহায়ক ।

৮) এতে থাকে ভিটামিন সি, যা রক্তসঞ্চলন ও ত্বক সমস্যা দূর করে ।

৯) রুপচর্চায় এর জুড়ি নেই, রুপচর্চা ও চেহারার কালো দাগ দূর করতে এলাচের জুড়ি নেই ।

লবঙ্গ আমাদের কি উপকারে আসে ?

লবঙ্গ সাধারণত রান্নার সময় অনেকে ফোড়নে ব্যাবহার করেন । গরম মসলার মধ্যেও লবঙ্গ থাকে । এ ছাড়া লবঙ্গের আর ও বিশেষ কিছু গুণ আছে, যা আমাদের শরীরের ক্ষেত্রে ভীষণ ফলদায়ক । লবঙ্গ খেলে আমাদের শরীরের কি উপকারে আসে চলুন সেগুলো জেনে নিই ।

১) লবঙ্গ কফ – কাশি দূর করে ।

২) পানির পিপাসা পেলে বা বুকে অস্বস্তি হলে লবঙ্গ খেলে পিপাসা মেটে । শরীরে ফুর্তি নিয়ে আসে ।

৩) লবঙ্গ হজম করতে সাহায্য করে ।

৪) লবঙ্গ খাওয়ার চাহিদা বৃদ্ধি করে ।

৫) পেটের ক্রিমি নাশ করে দেয় ।

৬) লবঙ্গ পিষে মিশ্রি বা মধুর সাথে খেলে আমাদের শরীরের রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমান বৃদ্ধি করে ।

৭) লবঙ্গ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কাজ করে । হাঁপানির মাত্রা কম করে ।

৮) চন্দনের গুঁড়োর সাথে লবঙ্গ পিষে লাগালে ত্বকের যে কোনো সমস্যা দূর হয়ে যায় ।

৯) দাঁতের ক্ষেত্রে লবঙ্গ ভীষণ ভালো ওষুধ । দাঁতে ব্যাথা হলে লবঙ্গ মুখে রাখলে ব্যাথা কমে যায় ।

১০) লবঙ্গ মুখের দুর্গন্ধ দূর করে ।

কিভাবে পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পাবেন ?

১) এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু ও একটু লবণ দিয়ে শরবত তৈরি করে প্রতিদিন সকালে পান করুন ।

২) সকালে দুই বা তিন কোয়া কাঁচা রসুন খেতে হবে । লেবুর শরবত পান করার পরই এটি খেয়ে নিলে ভাল ফল পাওয়া যাবে । এ পদ্ধতিটি আপনার শরীরের ওজন কমাতেও দ্বিগুন গতিতে কাজ করবে । একই সঙ্গে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চলন হবে মসৃণ গতিতে ।

৩) সকালের নাস্তায় অন্য খাবারের পরিমানটা কমিয়ে সেখানে ফলের স্থান করে দিতে হবে । প্রতিদিন সকালে এক বাটি ফল খেলে পেটে চর্বি জমার হাত থেকে অনেকটা রেহাই পাবেন ।

৪) পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে হলে পানির সাথে করতে হবে বন্ধুত্ব । কেননা পানি আপনার শরীরের পরিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর সব কিছু বের করে দিতে সাহায্য করে ।

৫) সাদা চালের ভাত থেকে দূরে থাকুন । এর পরির্বতে আটার তৈরি খাবার খেতে হবে ।

৬) আপনার খাবার দারুচিনি, আদা, কাঁচা মরিচ দিয়ে রান্না করুন । এ গুলো শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে ।

৭) চিনি জাতীয় খাবার শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্বি জমতে ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে পেট ও উরুতে । পেটের চর্বি থেকে রিহাই পেতে হলে চিনি এবং চিনি জাতীয় খাবারের সঙ্গে শত্রুতা ছাড়া উপায় নেই ।

গর্ভবতী মায়েরা কি কি খাবার খাবেন ?

গর্ভাবস্থায় শিশুর বৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে মায়ের উপর, অর্থাৎ সুস্থ মা মানে সুস্থ শিশু শিশুর পরিপূর্ন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার খাদ্যের যোগান দিতে হয় মাকে মা যে খাবার খাবেন শিশুও সেই খাবার খেয়ে পুষ্টি লাভ করে এ কারনে স্বাভাবিক মহিলাদের তুলনায় একজন গর্ভবতী মায়ের খাবারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি সঠিক পরিমানে খাবার গ্রহন না করলে সন্তান ঠিকমত বৃদ্ধি পাবে না ফলে সন্তান অপুষ্টি নিয়ে জন্মাবে   ধরনের শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি গর্ভবতী অবস্থায় কি খাবেন এবং কোন খাবার গর্ভের সন্তান এবং মায়ের জন্য প্রয়োজন তা নিচে আলোচনা করা হলো

প্রোটিন বা আমিষঃ প্রোটিন শরীরের গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । মাছ, মাংস, ডিম, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মটরশুটি, ডাল, বাদাম, ইত্যাদি বেশি পরিমানে খাবেন ।

ক্যালসিয়ামঃ গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ক্যাসিয়ামের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি । গর্ভাবস্থায় শেষ তিন মাসে শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য আনেক ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয় । দুধ, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছ, বাদাম, কমলা লেবু, শুকনো ফল, সবুজ পাতা সহ শাক – সবজি, ফুল কপি ও তৈলবীজ খাবারের প্রচুর পরিমানে ক্যাসিয়াম আছে ।

আয়রনঃ আমাদের দেশের বেশির ভাগ গর্ভবতী মহিলাই রক্তশূন্যতায় ভুগে । রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করার জন্য মাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে । গরু কিংবা খাসির কলিজা, বাচ্চা মুরগি, ডিম, মাছ, কলা, কচুশাক, পালং শাক, এ সবের মধ্যে প্রচুর পরিমানে আয়রন আছে ।

ফলিক এসিডঃ কোষ বিভাজনে ফলিক এসিডের বড় ধরনের ভূমিকা থাকার কারনে গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমানে ফলিক এসিড দরকার । ফলিক এসিড শিশুর মেরুদন্ড গঠনে সহায়তা করে । ফলিক এসিড সবুজ সবজিতে পাওয়া যায় ।

ভিটামিন – এঃ ভিটামিন – এ এর অভাবে বাচ্চাদের রাত কানা রোগ হয় । এ ছাড়া হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সমূহের গঠনের জন্য ভিটামিন – এ প্রয়োজন । মাংস, ডিম, তৈলাক্ত মাছ, দুগ্ধ জাত দ্রব্য, তেল ও বাদামে ভিটামিন –এ আছে ।

ভিটামিন – বিঃ এ সময় অনেক গর্ভবতী মহিলাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় । এই ভিটামিন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং শক্তি বাড়ায় । যেমন – কলিজা, মাংস, যকৃত, মাছ, দুধ, দই, ডিম, ডাল, আটা, গম, ভট্টা, কলা, পাকা বেল, পেয়ারা, পাকা পেঁপে, জাম, কাঁঠাল, লিচু, বাদাম, সবুজ শাক সবজি, ঢেঁকি ছাটা চাল, সয়াবিন, সবুজ ফুল কপি, সিম, বাঁধা কপি ইত্যাদি ভিটামিন – বি সমৃদ্ধ খাবার ।

ভিটামিন – সিঃ ভিটামিন – সি শিশুর হাড় তৈরীতে সাহায্য করে । ভিটামিন – সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন – আমলকি, পেয়ারা, কমলা লেবু, বাতাবী লেবু, সবুজ শাক সবজি, টমেটো, এবং আলু খেতে হবে । মনে রাখবেন, বেশিক্ষন রান্না করলে ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায় ।

ভিটামিন – ইঃ ভিটামিন – ই রক্ত সঞ্চলনে সাহায্য করে । আপেল, বাদাম, গাজর, বাঁধা কপি, ডিম, অলিভ তেল, ও সূর্যমূখী বীজে ভিটামিন – ই পাওয়া যায় ।

জিংকঃ গর্ভবস্থায় প্রথম তিন মাস জিংক ও ফলিক এসিডের ভূমিকা অপরিসীম । জিংক গর্ভপাত রোধ করে এবং শিশুর ওজন বাড়ায় । এই জিংক পাওয়া যাবে প্রানিজ প্রোটিনে । তাছাড়াও চিনে বাদাম, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, গম এসবে প্রচুর পরিমানে জিংক থাকে যা আপনার গর্ভাবস্থায় চাহিদা পূরনে সক্ষম ।

ভিটামিন ট্যাবলেটঃ গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিনের প্রয়োজন হয় । এই অতিরিক্ত ভিটামিনের চাহিদা খাবারের মাধ্যমে পূরন করা সম্ভব না হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ট্যাবলেট গ্রহন করতে হবে ।